কফি_হাউস

0
39

-“কাল আপনি কি আমার সাথে কফি হাউস যাবেন ? “

-“তা আমাকে বিয়ে করার আগে এক বছর সময় নিয়েছেন কি প্রেম করার জন্য ? “

-“হ্যা আসলে । আসলে না । আসলে ..”

-“আসল হোক বা নকল । কথা টা কি ?”

-“আসলে দেখুন আপনার বাড়ি থেকে আমায় পছন্দ করেছে এবং আমার বাড়ি থেকে আপনাকে ।দুজন দুজনকে ব্যক্তিগত ভাবে তো চিনিনা ।  এরকম অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রে পরস্পর পরস্পরকে একটু তো চেনা দরকার । “

-“হ্যা তা ঠিক । তা আর কি । চলুন । কাল বিকেলে । “

-“সকালে নয় ? “

-“দেখুন আপনার বাড়ি গেলে সেই তো সকালে উঠতে হবে । তো যে কদিন বাপের বাড়িতে আছি একটু ঘুমিয়ে নি । “

-“আরে না না । সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তো আমরা সবাই ঘুমাই । আচ্ছা সে পরে দেখা যাবে । কাল পাঁচটায় তাহলে ? “

-“ঠিকআছে । পাঁচটায় । “

পরদিন কফি হাউসে –

সুমন একটা সিগারেট হাতে নিলো । আর প্রিয়া কে নিয়ে উপরে উঠলো । প্রিয়া কালো শাড়িতে এবং সুমনের গায়ে শার্ট প্যান্ট । দুজনের বিয়ে হতে আর ছয় মাস বাকি । সুমন যে একবছর সময় নিয়েছিলো তার মধ্যে ছয় মাস কেটে গেছে ।

সিগারেট ধরিয়ে সুমন দুই কাপ কফির অর্ডার দিলো । প্রিয়া ফোনে কিছু করছিলো । কিছুক্ষণ পর প্রিয়া জিজ্ঞেস করলো ,

-“আচ্ছা সুমন , আপনার কি আমার প্রতি প্রেম জেগেছে ? “

-“কেনো বলুন তো । “

-“না এমনি । আমার কিন্তু এখনো জাগেনি । ছয় মাস কেটে গেলো তাও । আচ্ছা দেখুন ফটো টা কেমন উঠেছে ? “

দেখে সুমন চমকে গেলো । সুমন সিগারেট মুখে নিয়ে আছে সেই সময়ে ফটো তোলা ।

-“আরে একি ? “

-“একি মানে ? আপনার বাড়ি থেকে বলেছিলো আপনি কোনো নেশা করেননা । ভাবছি এটা ফেসবুকে আপলোড করে হবু শ্বশুর মশাই কে ট্যাগ করে দেবো । কেমন হয় ? “

-“এই না না । প্লিজ এমন করবেন না । মার একটাও মাটিতে পড়বেনা আমার তাহলে । ওরে বাবা । “

-“আমার সামনে সিগারেট খাবেন না । “

-“আচ্ছা । আচ্ছা আমরা আপনি থেকে তুমি তে আসতে পারিনা ? “

-“তো তোমাকে কে বলেছে আমাকে আপনি আজ্ঞে করে বলতে ? তুমিই বলছো । “

-“হেহে । “

-“এইখানে আমার না বিরক্ত লাগে । একটা অর্ডার দিলে এক ঘন্টা । ” এবার বিরক্ত হয়ে গেলো প্রিয়া ।

ঠিক তখনই কফি এলো ।

-“তা প্রিয়া , বলছি যে , সকালে আমি অফিস বেরিয়ে যাই । তারপর আমার ঘরে আমার মা বাবা আর তুমি  থাকবে । পারবে মানাতে ? “

-“আমার হবু শ্বশুর মশাই , ভাত কম খান , সাথে তরকারি বেশি খান । বিভিন্ন রকমের  তরকারি তার প্রিয় । আর তরকারি তে একটু ঝাল পছন্দ । একটু ঘুম কাতুরে মানুষ , ঘুমোতে পছন্দ করেন । সারাজীবন পরিশ্রম করে দুই ছেলে কে পড়াশোনা করিয়েছেন । অফিসের ছোটো কোয়ার্টার ছেড়ে নিজস্ব বাড়ি করেছেন , আর আমার হবু শাশুড়ি মা , তার থাইরয়েড আছে । তিনি নিয়মিত অসুধ খান না । মাছের ল্যাজা টা পছন্দ করেন । অর্ধেক দিন রাতে ভাত খান না , “পেট ভার আছে ” এই অজুহাত দিয়ে । কারণ উনি ভাত খেলে ওনার ছেলে দু টুকরো মাছ পাবে না । আর শুধু ভাত খেতে দেখলে ছেলের খারাপ লাগবে । উনি খুব গল্প করতে ভালোবাসেন , যেটা আমিও খুব ভালোবাসি । আর ছেলে কে নিয়ে সবসময় গর্ব করেন । পান মুখে থাকে ওনার । পান ওনার প্রিয় খাদ্য । তোমার বাড়ি সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে ফেলেছি । এতোদিন নিজের মা বাবার সাথে যেমন ভাবে থেকেছি । ওনাদের সাথে তেমন ভাবেই থাকতে পারবো । “

সুমন যেনো খুব খুশি । একমনে গালে হাত দিয়ে প্রিয়ার কথা শুনলো । প্রিয়ার কথা শেষ হলে বললো , “প্রিয়া ভালোবেসে ফেলেছি তোমায় । “

-“আরে সে তো আমিও নিজেকে ভালোবাসি । যাই হোক । তুমি পারবে ? আমাকে মানিয়ে চলতে ? আমার খুব রাগ । খুব মুডি । যখন তখন মুড সুইং করে । আগে একটা বয় ফ্রেন্ড ছিলো । ছেড়ে দিলো । এই মনে পড়লো । আমি ভার্জিন নই । আপত্তি নেই তো ? “

সুমন একটু ভাবলো । বললো , “মানে ? “

-“আগের যে বয়ফ্রেন্ড ছিলো । তার সাথে….”

সুমন চিন্তায় পড়লো একটু । জিজ্ঞেস করলো , “এই ব্যপারটা কি আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে ? “

-“না তা নয় । কিন্তু আজকাল এর  ছেলেরা তো এই ব্যাপারে খুব মাথা ঘামায় । “

-“সেতো আজকালকার মেয়েরাও বিয়ের আগে শ্বশুর শাশুড়ির ব্যপারে এতো খোঁজ রাখেনা । বিয়ের পরেই রাখেনা । “

-“তুমি এখনকার ছেলের মতো নয় । “

-“তুমি এখনকার মেয়ের মতো নয় । “

-“ঢপ দিয়েছিলাম ।”

-“কোনটা ? “

-“মন পরীক্ষার জন্য বলেছিলাম । আগে কোনো প্রেমিক ছিলোনা । কিন্তু ভাবছি আজ থেকে কারোর প্রেমিকা হয়েই যাই । “

সুমন মুচকি হাসলো একটু । প্রিয়া বললো -“আহা । কি হাসি কি হাসি । “

Leave a Reply