ফ্যান -3

0
47

হটাত ফোন টা বেজে উঠলো রেহমানের l ছিলিম টা সরিয়ে ফোন তুললো l

-“ভাই গেট এক্সামের ফর্ম বেরিয়েছে l “

-“আহ তোরা এতো টেনসন করিস কেনো ? গেট কা , ক্যাট কা , ম্যাট কা সাব কা এক্সাম দেগা রে তেরা রেহমান l “

-“উফ তোর এই ফিল্মি ডায়লগ গুলো এবার তো বন্ধ কর রে ভাই l তোর কি একটুও চিন্তা হয়না ? “

-“না হয়না l রাখ l”-বলে ফোন টা রেখে আবার ছিলিম টা মুখে নিলো রেহমান l

পরদিন সকালে কলেজ পৌঁছলো সে l সারাদিন মদ গাঁজায় দিন কাটে তার l তবে তাই বলে এমন নয় যে সে পড়াশোনায় খারাপ l মাথা যথেষ্ট ভালো , সেই কারণে পরীক্ষার আগের রাতে যেটুকু পড়ে তাতে ভালোভাবেই পাশ করে সে l সব থেকে বড় কথা যেটুকু পড়ে , মন থেকে পড়ে , নম্বরের জন্য পড়েনা l তো এই রেহমান নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর খুব বড় ভক্ত l দিন রাত তার মিমিক্রি করে বেড়ায় l কলেজে সেই কারণে একটু পরিচয় ও আছে l  গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর এর দ্বিতীয় ভাগ পুরো গুলে খেয়ে নিয়েছে সে l তার স্বপ্ন একদিন সে তার এই প্রতিভা তার গুরু কে দেখাবে l এসব চাকরির প্রতি তার আগ্রহ নেই , যদিও তার মা বাবার ইচ্ছে একটা বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পনি তে ছেলেকে চাকরী করানোর l তার এই সারাদিন নিশ্চিন্তে নেশা করা এবং পরীক্ষার সময় ঠিক পাশ করে যাওয়া কিন্তু ক্লাসের অন্যান্য কিছু ছেলে মেয়েদের বড্ড চোঁখে লাগলো l

ফাইনাল ইয়ার তখন l কলেজে বিভিন্ন কোম্পানি আসতে শুরূ করেছে lকেউ কেউ খুব চিন্তায় নিজের জন্য , আর কেউ কেউ চিন্তায় পড়েছে রেহমানের জন্য l কারণ এতদিন সে যেমন ভাবে নম্বর পেয়েছে ঠিক তেমন ভাবেই চাকরী পায় কিনা তা দেখার l কারোর কারোর মুখে রেহমান কে অবজ্ঞার ছাপ l সব ওর চোঁখে পড়ে l মনে মনে ঠিক করে নেয় জবাব তাকে দিতে হবে এসবের l অবশেষে ইন্টারভিউ এর দিন উপস্থিত l ডাক পড়ে রেহমানের l কিছুক্ষণ পর যখন সে বেড়িয়ে আসলো , তাকে ঘিরে ধরে তার বন্ধুরা l সেসব থেকে বেড়িয়ে সেই ছেলেটার মুখোমুখি দাড়ায় সে যে রেহমানের প্রতি ক্লাসে খুব অবজ্ঞা করতো l মুখ টা একটু ভেংচি কেটে রেহমান বললো , “জা রাহা হু ব্যাংকক ” তারপর পাশের ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বললো , “তু বরাবর ভাই কে প্যার দাবানাl হা ? “

সঙ্গে সঙ্গে যেনো রেহমানের বন্ধু দের মুখে হো হো করে হাসি জেগে উঠলো l

ঘটনার বেশ কয়েকবছর পেরিয়েছে l রেহমান এখন বেশ দায়িত্ববান ছেলে l এক প্রেমিকাও আছে তার l কোম্পানির উঁচু পোস্টে সে এখন চাকরী করে l কিন্তু আজ ও ওর মাথা থেকে তার গুরুর সাথে দেখা করার ভূত নামেনি l এখনো সে রোজ স্বপ্ন দেখে l কিন্তু এবার যেনো ভগবান চায় তার স্বপ্ন পূরণ হোক l অফিসে একটা নোটিসের ওপর তার চোখ থেমে গেলো l কোম্পনীর সহায়তায়  এক মস্ত বড় অনুষ্ঠান হতে চলেছে l যেখানে কোম্পনীর এমপ্লয়ীরা নিজের ইচ্ছে মতো নিজের নিজের প্রতিভার প্রদর্শন করতে পারবেন l আর এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী l তার আগামী সিনেমার প্রচারও চলবে সেখানে l আর থাকবে প্রচুর সাধারণ মানুষ l রেহমান অনুশীলনে লেগে পড়ে l

আয়নার সামনে দাড়িয়ে রোজ ডায়লগ গুলো একবার করে অভ্যাস করা l অভিনয় করা l অবশেষে সেই দিন l কলেজে মিমিক্রি করতে অনেকবার মঞ্চে উঠতে হয়েছিলো l কিন্তু এতো বড়ো মঞ্চ এই প্রথম l গুরুদেবের সামনেই তার অবিকল অভিনয় মন জিতে নিলো সবার l স্বয়ং তার গুরুদেব তার এই অভিনয় দেখে এগিয়ে আসলেন তার সাথে হাত মেলাতে l রেহমান মঞ্চেই নিজের হাত টা তার দিকে বাড়িয়ে দেয় একটা অটোগ্রাফের জন্য l আর ফোন টা বের করে একটা ফটো তুলে নেয় l তার যেনো স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত l ক্যামেরায় বন্দী করে রাখতে চায় সে l আজীবন আগলে রাখার জন্য l

Leave a Reply